Sunday, 17 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

হারিয়ে যাচ্ছে মক্তব শিক্ষা

মোঃ শাফী চৌধুরীঃ

গ্রাম বাংলার চিরায়ত একটি দৃশ্য ছিল ভোর বেলা ছোট কোমলমতি শিশুরা কোরআনকে বুকে আকড়ে ধরে মসজিদের দিকে ছুটতো। কালিমা আর আলিফ, বা তা এর সুমধুর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠতো প্রতিটি জনপদ।কিন্তু কালের বিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোয়া হারিয়ে গেছে এই মক্তব শিক্ষা প্রতিষ্টান। আগের মত এখন আর কঁচিকাঁচা শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্য মক্তবে যেতে দেখা যায় না। কালিমা আর আলিফ, বা, তা এর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে না বাংলার জনপদ।

এখন সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মুসলিম এই রাষ্ট্র থেকে।শিশুদের কোরআন শিক্ষার এবং ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানার্জনের উত্তম শিক্ষা কেন্দ্র হলো মক্তব।এখান থেকে শিশুরা কোরআনের তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ-রোজার নিয়ম কানুন, জরুরি মাসআলা-মাসায়েল, দোয়া-কালাম ইত্যাদি শিখতে পারতো। কিন্তু এমন পাঠশালা থেকে এখন আর অবধারিত রোজ সকালে কোরআনের আওয়াজ কঁচিকাঁচা শিশুদের কন্ঠ থেকে বের হয় না।

আধুনিক প্রেমী অভিভাবকরা শিশুদের আধুনিক শিক্ষা শিক্ষিত করতে মক্তব্যের পরিবর্তে এক গাধা বই নিয়ে ছুটে চলেন কিন্ডার গার্ডেনের পানে।ফলে আধুনিক শিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে আমাদের কোমলমতি শিশুরা। অভিভাবকদের অবহেলার কারনে মসজিদের ইমাম সাহেবরা এখন মক্তবে কোরআন পড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। যার কারনে এলাকার শিশু কিশোররা কোরআন শিক্ষা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

এর দ্বায় শিশুদের নয় তা অভিভাবকদের।আপনি শিশুদের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা করে দিবেন তবে তা ধর্মীয় শিক্ষাকে বাদ দিয়ে নয়। শিশুর অবশ্যই ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখেছি, কোথাও কোথাও মক্তবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও যা-ও চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো জৌলুস নেই। শিশুদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নামে মাত্র চলে এসব কোরআন শিক্ষার পাঠশালা।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :