Monday, 21 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

পারল না বাংলাদেশ: আবার হার

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারে পর যে ঘোর অমানিশা নেমে এসেছিল দেশের ক্রিকেটে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক জয়েই সেটি থেকে মুক্তির দিশা মিলেছিল যেন। কিন্তু ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে যেই না আফগানিস্তান প্রতিপক্ষ হয়ে এল, অমনি ব্যর্থতার চোরাবালিতে হারাল বাংলাদেশ। আফগানিস্তান বড় ‘জুজু’ হয়েই থাকল সাকিব আল হাসানদের জন্য।

রবিবার ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৬ রানে হেরে গেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আফগানদের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১ বল বাকি থাকতেই ১৩৯ রানে থেমেছে টাইগাররা।এক মুজিব উর রহমানই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন টপ অর্ডারের ব্যাটিং। পরে যোগ দেন রশিদ খান ও গুলবাদিন নাইব। শুরুর ধস এড়িয়ে আফগানিস্তান বড় পুঁজি গড়লেও বাংলাদেশ সেটি পারেনি।

দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল আফগানিস্তান। বাংলাদেশের জয় দুই ম্যাচে একটিতে। জিম্বাবুয়ে হেরেছে দুই ম্যাচের দুটিতেই। সিরিজে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে আরো একবার করে মুখোমুখি হবে। সেরা দুটি দল খেলবে ফাইনালে। প্রথম পর্বের বাকি ম্যাচগুলো হবে চট্টগ্রামে। বুধবার বন্দরনগরীতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। মুজিব একাই তুলে নেন ৩ উইকেট। ওপেনিংয়ে চমক উপহার দিয়েছিল টাইগাররা। লিটন দাসের সঙ্গে এলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু লাভ হলো না কিছুই। মুজিবের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফিরে যান লিটন। রানের খাতা খোলার আগেই। ফরিদ আহমেদের পরের ওভারে বোল্ড হন মুশফিক। মাত্র ৫ রানে।

এরপর সাকিবকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানালেন মুজিব। পঞ্চম ওভারে রশিদ খানের হাতে ক্যাচ দেন সাকিব। ১৩ বলে ২ চারে করেন ১৮ রান। একই ওভারের শেষ বলে সৌম্য সরকারকেও শিকার বানান মুজিব। তিনিও রানের খাতা খুলতে পারেননি। গোল্ডেন ডাক মেরেছেন।

মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমানের লড়াই শুরু এরপর। পঞ্চম উইকেটে ৫৮ রান যোগ করে মাহমুদউল্লাহ ফেরেন নাইবের বলে। ৩৯ বলে ৫ চারে ৪৪ রান করেন তিনি। পরের ওভারে সাব্বিরও ফেরেন। ২৪ রান করা এই ব্যাটারকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান মুজিব।

এরপর আশা হয়ে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ হোসেন। কিন্তু আফিফ এদিন ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। মোসাদ্দেক ১২ রানে থামেন। বাংলাদেশ তাই ফের হার মানে আফগানদের বিপক্ষে। দলটির হয়ে মুজিব সর্বাধিক ৪ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ফরিদ আহমেদ, রশিদ খান ও গুলবাদিন নাইব।

এর আগে বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল উড়ন্ত। ৪০ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের ব্যাকফুটে ফেলে দেয় টাইগাররা। কিন্তু মোহাম্মদ নবী ও আসগর আফগান দলকে টেনে তোলেন। আসগর ৪০ রানে ফিরলেও নবী অপরাজিত ছিলেন ৮৪ রানে। ৫৪ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

Developed by :