Monday, 21 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে বকের বাড়ি

কবি মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর কবিতার ভাষায় ‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইলো, কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল।’ বাস্তবে পাখির সঙ্গে মিতালি গড়ে তুলেছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সরিষকান্দি গ্রামের আনোয়ার খান ও আতাউর রহমান খানের বাড়ির লোকজন। সেখানে বক পাখির কলকাকলী আর কিচিরমিচির শব্দে লোকজনদের রাত পোহায়।

প্রয়াত প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার খান ও আতাউর রহমান খানের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে গত কয়েক বছর যাবৎ সাদা বক পাখি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলেছে। বছরের একটি মৌসুমে হাজারো সাদা বকসহ কয়েকটি প্রজাতির পাখির নিরাপদ অভয়ারণ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে তোলে। পাখির নিরাপদ এই অভয়ারণ্যেও শিকারিদের কিছু তৎপরতা থাকলেও সেটিও রুখে দিয়েছেন এই দুই বাড়ির লোকজন মিলে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আনোয়ার খান ও তার পাশের বাড়ির আতাউর রহমান খানের বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে বাঁশঝাড়ের সারি। সারিবদ্ধ বাঁশঝাড়ে দীর্ঘ চার, পাঁচ বছর ধরে নিরাপদ আবাসভূমি গড়েছে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় যে কারও নজরে পড়বে ধবধবে সাদা, সোনালি বকসহ বিভিন্ন জাতের বকের কিচিরমিচির শব্দ আর এদিক সেদিক লাফালাফির দৃশ্য।

অতীতে গ্রামগঞ্জের আনাচে-কানাচে সচরাচর পাখির বিচরণ দেখা যেতো। সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন কারণে এসব দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না। দেশীয় প্রজাতির প্রাচীনতম গাছ বিলুপ্ত, খাবার সংকট, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগসহ নানা কারণে পাখি নিরাপদ আবাসভূমি হারাচ্ছে। সরিষকান্দি গ্রামের ওই দুটি বাড়ির পুরোনো বাঁশঝাড় ও গাছগাছালিতে গত কয়েক বছর ধরে সাদা বক, সোনালি বক, পানকৌড়িসহ কয়েক প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলেছে। সকালে আর বিকেলে পাখির কিচিরমিচির শব্দ গোটা বাড়ির পরিবেশকে ভিন্ন আঙ্গিকে মাতিয়ে তোলে।

গ্রামের জগরাম শব্দকর জানান, কয়েক বছর ধরে এসব পাখি এই দুটি বাড়ির বাঁশঝাড় ও গাছগাছালিতে অবাধ বিচরণ করছে। সকালে ও বিকেলে পাখির কিচিরমিচির শব্দ দূর থেকেই শোনা যায়। সকালে খাবারের উদ্দেশ্যে সবগুলো পাখিই বেরিয়ে পড়ে। আবার বিকেলে ধীরে ধীরে বাসস্থানে ফিরতে থাকে। তিনি আরও বলেন, গত বছর ও এর আগের বছরজুড়ে বক পাখির উপস্থিতি আরও বেশি ছিল। বাড়ির পেছনের ফিসারিসহ আশপাশ এলাকার আবাদি জমি থেকে বেশির ভাগ খাবার খেতে দেখা যায়। তবে পাখির নিরাপদ আবাসভূমি হলেও কিছুসংখ্যক শিকারিদের অপতৎপরতা রয়েছে। এসব শিকারিরা খেতের জমিতে কিংবা বন্দুক নিয়ে সন্ধ্যায় গোপনে পাখি শিকারের চেষ্টা করে। এসব কারণে পাখির উপস্থিতি আগের চেয়ে কম দেখা যাচ্ছে।

Developed by :