Saturday, 31 October, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ এমপিও বঞ্চিত: শিক্ষিকার মর্মস্পশী আকুতি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্টান আব্দুল গফুর চৌধরী মহিলা কলেজ। ২০০০ সাল হতে যাত্রা শুরু করলেও বতর্মানে সিলেট বিভাগের অন্যতম একটি উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্টানে পরিনত হয়েছে।১৯ বছর ধরে অন্য চাকুরীর মায়া ত্যাগ করে নিজের কষ্ট বুকে ধারন করে পরম মমতায় ছাত্রীদের লেখাপড়া করিয়ে আসছেন।। তারা ভেবেছেন একদিন এমপিও পাবে প্রতিষ্টানটি। শুধু কলেজের শিক্ষক/শিক্ষিকা নয় গোটা এলাকাবাসী মনে করেছিলেন এবার হয়তো তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব ।  এমপিওর সকল শর্ত পূরণ করেও  হয়নি এমপিও। যারা ১৯ বছর ধরে বিনা বেতনে মানবিক জীবন যাপন করে এমপিও ভুক্তির আশায় শিক্ষক।শিক্ষিকার নিরলস ভাবে কাজ করে প্রতিষ্টানটি কে সুনাম বয়ে আনেন। কিন্তু তাদের সেই আশা হতাশ পরিনত হয়ে এখন তাদের চোখে অন্ধকার। কেন হয়নি এমপিও এ প্রশ্ন খুজছেন সবাই। হতাশায় ভুগছেন সকলে। তারা কি করবেন সকলের এমন প্রশ্ন অন্তরালে।  মনের হতাশার কথা লিখেছেন ফেইসবুকে। প্রতিষ্টানটিতে কর্মরত প্রভাষক শমির্লা সিনহা তার ফেইসবুকের ওয়ালে সেই জীবনের ১৯টি বছরের কথা তুলে ধরেছেন। তা পাঠকও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তুলে ধরা হলো।——————

শর্মিলা সিনহাঃ ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজটি। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একমাত্র মহিলা কলেজটি এলাকার নারীশিক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

নন-এমপিওভুক্ত কলেজটি থেকে ১৮ বছর ধরে অসংখ্য ছাত্রী ভালো ফল নিয়ে পাশ করে, আজ অনেকেই সরকারী ডাক্তার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্কুল কলেজের শিক্ষক, ব্যাংকার আরও নানা চাকরিতে কর্মরত। এখনও আমাদের অনেক ছাত্রী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে এবং ভালো রেজাল্ট করছে।

গড় পাশের হার ৭৫%, ৭০০-র অধিক ছাত্রী, ১৬ জন শিক্ষক সহ ২০ জনের অধিক কর্মচারী বিনা পারিশ্রমিকে ১৯ বছর শিক্ষাদানসহ নানা শ্রম দিয়ে আসছেন এ কলেজটিতে। বছরব্যাপী নানা সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও আমরা উপজেলায় প্রথম, দ্বিতীয় স্হান নিয়েছি অনেকবার। শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ, শ্রেষ্ঠ শিক্ষকসহ শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হবারও যোগ্যতা অর্জন করেছি আমরা।

তবু অনলাইনে আবেদনের সবগুলো শর্ত খুব ভালোভাবে পূর্ণ করার পরও আজ ঘোষিত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকায় নাম দেখতে না পেয়ে দুঃখে, হতাশায় আকুল কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শিক্ষক কর্মচারী সবাই, বিস্মিত এলাকাবাসী।

আর কতদিন? আর কী করলে এ অভিশাপ থেকে মুক্তি আসবে?

এতগুলো বছরের এত মানুষের আত্মত্যাগের তবে কি কোনও মূল্যই নেই?

এবার কী করব আমরা?
কারও কাছে এ প্রশ্নের কোনও উত্তর আছে কি?
এই এলাকার নারীশিক্ষার উন্নয়নে এত বছর ধরে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাবার পর আজ দুঃসময়ে আমরা অভিভাবকমহল, সংবাদকর্মীদের একান্তভাবে পাশে চাই।

(ফেসইবুক থেকে নেয়া)

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :