Thursday, 4 June, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

জনপ্রতিনিধিরা নীরব: কমলগঞ্জে কর্মহীন ২০ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস কারনে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ প্রায় নানা পেশার নিয়োজিত প্রায় ২০ হাজার মানুষ কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু এসব কর্মহীন মানুষের পাশে দুই/তিনজন জনপ্রতিনিধি ছাড়া কেউ নেই। সবাই নীরব। সরকারী ত্রানের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। যখন ত্রান এসেছে শুনের তখন তৎপর হয়ে উঠেন। যদিও সরকারী ভাবে নগদ টাকাসহ প্রায় ২৩ টন জিআর চাল বরাদ্ধ হয়েছে। সেগুলো ২৩ শত পরিবারকে বিতরণ জন্য চেয়ারম্যানদের কাছে হস্তান্তর করেছে উপজেলা প্রশাসন। ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ত্রানের। যদিও সরকারী সহযোগীতার দিকে না চেয়ে পৌরসভার মেয়র, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যন ও শমসেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান তারা নিজ নিজ ভাবে কর্মহীনদের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু বাকী পতনউষার, ইসলামপুর. মাধবপুর, কমলগঞ্জ সদর, আদমপুর, মুন্সিবাজার ও আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা হাত গুটিয়ে বাড়িতে বসে আছেন। ব্যক্তিগত ভাবে কোন সহযোগীর হাত প্রসারিত করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু মাত্র সরকারী বরাদ্ধের ত্রান বিতরণ করেছেন। জনপ্রতিনিধিদের নীরবতায় স্ব স্ব ইউনিয়নে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
সচেতন মহল জানান. ভোট আসলে জনগনের জন্য মায়া কান্না হয়। কিন্তু দেশের এমন পরিস্থিতিতে জনগনের পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা। অথচ ৯টি ইউণিয়নের জনপ্রতিনিধরা ইউনিয়নের নিজস্ব তহবিল হতে আপদকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই। শুধু চেয়ারম্যান নয় ৮১জন ইউপি সদস্যও বসে আছেন হাত গুটিয়ে। তারা প্রশাসনের সাথে যোগযোগ করছেন কখন আসবে ত্রান। এদিকে সরকারের ত্রানের অপেক্ষা না করে দরিদ্র রিক্সাচালক, সিএনজি, ঠেলাচালক ও দরিদ্র পরিবারকে ব্যক্তিগত ভাবে চাল, ডাল, লবন, সাবান, নগদ টাকা বিতরণ করেছেন রহিমপুরইউপি চেযারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদুরল, পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদ ও শমসেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুয়েল আহেমদ। গত তিন দিন ধরে তারা ওয়ার্ডের তালিকা করে কর্মহীন লোকদের সহযোগীতা করছেন।
এ ব্যপারে কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আহবানে সাড়া দিয়ে পৌরসভার তহবিল ও নিজস্ব অর্থায়নে গরীবদের পাশে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, দেশের এ ক্রান্তিকালে প্রত্যোক জনপ্রতিনিধি নিজ দায়িত্বে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। অপরদিকে মানুষের কষ্ট দেখে বসে নেই দানশীল ব্যক্তি ও সংগঠন । ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্চেন কর্মহীন নানা পেশার বাড়ি বাড়ি।
কমলগঞ্জে একটি পরিবার তিন দিন ধরে একটি অসহায় থাকার সংবাদ ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজ সমন্বয়ে এক প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী নিয়ে শমশেরনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে বিধাব স্বপ্না বেগমের বাড়িতে। যান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান ও কবির শেখ নাম।
কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে আফরোজ উদ্দীন ট্রাস্ট থেকে ৫০টি পরিবারে খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করা হয়। আসিফ নিয়াজ (রনি) ৫০টি পরিবারে, মাইদুল হাসান রিপন শতাধিক পরিবারে ও মাসুম আহমেদ ৫০টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। শমশেরনগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পক্ষে বাড়ি ঘরে আটকা পড়া অষহায় ৫০টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। সাংবাদিক আলমগীর হোসেন ৫০টি অসহায় পরিবারের কাছে মঙ্গলবার রাতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন। মাধবপুর ইউনিয়নে স্থানীয় সংবাদকর্মী আসহাবুর ইসলাম নিজ উদ্যোগে বেশ কয়েকটি পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন। আদমপুর ইউনয়িনে ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (ফারুক) নিজ বাড়ি থেকে ২৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। করেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সরকারী ভাবে তনি দফায় ২৩ টন চাল ও নগদ টাকা এসেছে। ইতি মধ্যে ৫ শত পরিবারকে সহযোগীতা করা হয়েছে। বাকী ত্রান দ্রুত পৌছানোর জন্য সংশ্লিস্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন ব্যক্তি উদ্যোগ কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন, সরকারী ত্রানের আশা না করে দ্রুত ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষকে সহযোগীতা করা দরকার।

Developed by :