Saturday, 31 October, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে সংসার চালাতে ব্যবসার ধরণ বদল

মো: মোস্তাফিজুর রহমান,কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার):
করোনা ভাইরাসের কারনে এক মাস যাবত কাঁচা বাজার, মোদী দোকান ব্যতীত অন্যান্য দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শত শত দোকান মালিক ও কর্মচারী পড়েছে চরম দুর্ভোগে। কষ্টে জীবন যাপন করছেন। সংসার চালাতে না পারায় বেঁচে নিয়েছেন ভিন্ন কৌশল। ষ্টেশনারী দোকানে তুলেছেন মাস্ক ও ফলের সামগ্রী। দোকানগুলোর সামনে শোভা পাচ্ছে আপেল, কলা, আঙ্গুর, কমলা, মাল্টা, খেজুর, তরমুজ ও বেল। তারা এখন ফল বিক্রেতা সেজেছেন। অনেকেই বলছেন তারা বাধ্য হয়েই ব্যবসার ধরণ বদল করেছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

ভানুগাছ বাজারের প্রতিষ্টিত মুড়িও চানাচুর ব্যবসায়ী মন্দির মোদক। প্রতিদিন যার বিক্রি ছিল ৩/৪ হাজার টাকা। কিন্তু করোনায় তার ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ এক মাস যাবত। বাধ্য হয়ে এক সপ্তাহ ধরে মুড়ি বিক্রিবাদ দিয়ে শুরু করেছেন ফল ব্যবসা। তিনি এখন নানা জাতের ফল বিক্রি করছেন। একই ভাবে উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, ভানুগাছবাজার, উপজেলা চৌমুহনী ও শমসেরনগর বাজার সহ অনেক বাজারে এ ভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পেটের দায়ে বিকল্প ব্যবসা বেচে নিয়েছেন। কেউ তুলেছেন আলু, ডাল,পেয়াজ আবার কেউ তুলেছেন ফল, মাস্ক ইত্যাদি পন্য। আবার অনেকেই বিক্রি করছেন কলা, তাল, লেবু ফল।
আদমপুর ও উপজেলা চৌমুহনীর কয়েকজন কাপড় ও স্টেশনারী পণ্য ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসার আয় দিয়ে তাদের সংসার চলতো। তাছাড়া কয়েকজন কর্মচারিদের বেতন ভাতা দিতেন। গত টানা এক মাসে তারা অনকে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। মাঝে মাঝে তারা সকালে দোকার একটি সাটার খুলে কিছু পন্য বিক্রি করতেন। তবে প্রশাসনের অভিযানে বাধ্য হয়ে তাড়িগড়ি করে দোকান বন্ধ করে দিতে হত। আবার অভিযানে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানাও দিতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে এখন ব্যবসার ধরণ বদল করে মাস্ক ও ফল বিক্রি করছেন।
শমশেরনগর বাজারের মৃদুল রেস্টুরেন্টের মালিক হাজী আকমল আলী বলেন, গত এক মাস তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক লোকসানে পড়েছেন তার আয়ের এটি একমাত্র পথ ছিল। তার প্রতিষ্ঠানে ১০ জন কর্মচারীও কাজ করতেন। এখন ঠিকে থাকতে বাধ্য হয়ে গত কয়েক দিন ধরে দোকানের সামনে নানা জাতের ফল বিক্রি করছেন। আর তার কর্মচারীদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।
শমশেরনগরের আরেক ব্যবসায়ী জালাল শিকদার জানান, তিনি এখন ঠিকে থাকতে দোকানের সামনে মাস্ক ও ফল বিক্রি করছেন। এ ভাবে বিভিন্ন হাটবাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানে মুল ব্যবসা বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবসা চালু করেছেন।ভানুগাছ পৌর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে মোদী দোকান ব্যতিত বাকী দোকান বন্ধ। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার অনেকেই ব্যবসার ধরণ বদল করেছেন। তিনি জানান, ৩ শতাধিক ব্যবসায়ীকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে সমিতির পক্ষ হতে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :