Wednesday, 15 July, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

করোনার উপসর্গে তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু

করোনার উপসর্গ নিয়ে ৩ জেলায় ১০ জন মারা গেছেন। এদের কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কেউ কেউ বাড়িতে মারা গেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত জানানো হলো।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও জুড়ী উপজেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ৩ জন মারা গেছেন। তারা হলো, ভাটেরা ইউনিয়নের কলিামবাদ গ্রামের লতিফ মিয়া মেয়ে চিনু বেগম (৫ ), শ্রীমঙ্গলের সিন্দুর খান ইউনিয়নের পুরানগাও গ্রামের কনরী বেগম (৪৫) এবং জুড়ীর ফুলতলা ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের মাসুক মিয়া (৫৮)। সোমবার (১৫ জুন)  স্থানীয় প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে। কুলাউড়া সরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে চিনুর পাতলা পায়খানা শুরু হয়। তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলেও ভর্তির আগেই মারা যায়। গত ৬দিন থেকে সে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট ভুগছিল। কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক জানান, শিশুরটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। জানা গেছে, কনরী বেগম করোনা উপসর্গে রবিবার রাতে মারা যায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। মাসুক মিয়ার ছেলে শিপলু জানান, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বুধবার (১০ জুন) দুপুরে তার বাবাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। রোগের বর্ণনা শুনে চিকিৎসকরা করোনা সন্দেহে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ৫ দিন সেখানে চিকিৎসা চলে। তবে আইসিইউ না থাকায় তার বাবাকে নর্থইস্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি মারা যান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপজেলা প্রশাসন তার দাফন করেছে। প্রসঙ্গত, সোমবার পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় মোট ১৯১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৭৫ জন আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

চাঁদপুর

চাঁদপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চার জন হাজীগঞ্জ উপজেলার, একজন শাহরাস্তি উপজেলার এবং একজন ফরিদগঞ্জ উপজেলার। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এসএম শোয়েব আহমেদ চিশতী জানান, রবিবার (১৪ জুন) রাতে মারা যান হাজীগঞ্জের হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের পাতানিশ গ্রামের খোরশেদ আলম (৫৫) ও বাকিলা ইউনিয়নের খলাপাড়া পাটওয়ারী বাড়ির জামাল পাটওয়ারী (৫৮)। আর  সোমবার বিকালে মারা যান গন্ধব্যপুর ইউনিয়নের দেশখাগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক। রাত ৮টার দিকে মারা গেছেন বলাখাল এলাকার লক্ষ্মণ নামে এক ব্যক্তি। মৃতদের মধ্যে খোরশেদ আলমের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর জামাল পাটওয়ারীর মৃত্যুর বিষয়টি সকালে জানানোয় তার নমুন সংগ্রহ করা হয়নি। শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জানিয়েছেন, শাহরাস্তি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক আব্দুল ছালাম মোল্লা সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন,  ‘সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সী মান্নান প্রধান নামে একজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। তার বাড়ি ফরিদগঞ্জে। সকাল ৯টায় তিনি হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান।’

পাবনা

করোনার উপসর্গ নিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উৎপল সরকার (৫৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সালেহ মুহাম্মাদ আলী জানান, রবিবার সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পাবনা জোনাল অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার, পাবনা শহরের শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা উৎপল সরকার হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই রাতে তিনি মারা যান। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত ডা. আব্দুর রহিম মৃধা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে। আর উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৬ জন।

Developed by :