Friday, 14 August, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

মৌলভীবাজারের আনারসের দাম পাচ্ছেন না চাষীরা


কাগজ রিপোর্ট:
মৌলভীবাজার বিভিন্ন উপজেলার চলতি বছর মৌসুমী ফল আনারসের ব্যাপক ফলন হয়েছে। ১২০১ হেক্টর জমিতে ভালো ফলন হলেও করোনায় দাম পাচ্ছেনা চাষীরা। পাশাপাশি সংরক্ষনের অভাবে গুদামে পচে যাচ্ছে আনারস। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীদের। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও প্রক্রিয়াজাত শিল্প, কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবী করেছেন। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন পাহাড়ী ও সমতল ভূমিতে আনারস ও লেবু বেশি চাষ হয়ে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানঘাঁটি, মাধবপুর, মাঝেরছড়া, পুরানবাড়ি ও আদমপুর এলাকায় ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোকামবাজার, সাতাগাঁও, মুছাই এলাকা, মির্জাপুর, ভূনবী,ভৈরববাজার,ডলুবাড়ি, রাধানগর, মোহাজেরাবাদ এলাকার পাহাড়ী ও সমতল ভূমিতে বেশি আনারস লেবু চাষ হয়। ওইসব এলাকা থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাতপর্যন্ত পিকআপ,জীপ ও ঠেলাগাড়ী বোঝাই করে শ্রীমঙ্গল শহরের নতুনবাজার এলাকায় বিভিন্ন আড়ৎতে আনারস ও লেবু, কাঠাঁল নিয়ে আসছেন বাগান চাষীরা। সেখান থেকে খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা আনারস,লেবু ও কাঠাঁল ক্রয় করে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার,পাড়া মহল্লায় বিক্রি করছেন চূড়া দামে। কিন্তু বাগান মালিকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাগান মালিক ও চাষীরা বলছেন, ফলন ভাল হলেও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে তাদের ফসল। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও প্রক্রিয়াজাত শিল্প, কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে তাদের।
ঘুরে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল নতুন বাজার এলাকায় আনারসসহ মৌসুমি ফলমূলে ভরপুর থাকলেও বাজারগুলো ক্রেতা শূন্য। করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ চলাচল সীমিত করেছেন। বিশেষ করে পাইকারীরা শ্রীমঙ্গলে আসতে চাচ্ছেন না। উপজেলা বাহিরের কোন পাইকারী ব্যবসায়ী নেই বললেই চলে।
কমলগঞ্জে আনারস ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, গত বছরের চেয়ে উৎপাদন ভাল। তবে করোনা ভাইরাস থাকায় ব্যবসা কম। করোনা না থাকলে আমরা ব্যবসা বাণিজ্য খুব ভাল করতে পারতাম।’ ‘জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আনারসের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদিত আনারস বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা সদর ও সিলেট,সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ বিক্রি হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত নয়। গত বছর এসব আনারস রাজধানী ঢাকা কাওরানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বেচাকেনা হতো। এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে পাইকারী ব্যবসায়ী আসতে পারছে না এবং পাশাপাশি আনারস ,লেবু ঢাকার আড়ৎতে পাঠানো যাচ্ছে না।’
শ্রীমঙ্গল জালালিয়া সড়কের বাসিন্দা আনারস চাষী ও বাগান মালিক মো.শাহেদ আহমদ জানান, জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আনারসের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। এবছর আনারসের ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আনারসের চাহিদা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকটাই কমে গেছে। কারণ ব্যবসায়ীরা আসতে পারছে না। আর্থিক ভাবে লোকসানে পড়েছে।
শ্রীমঙ্গল নতুন মেসার্স নেপাল আদিত্য এন্ড সন্সের প্রো: নির্মল আদিত্য বলেন, ‘ঢাকা ও নরসিংদীর বগুড়ার আনারস ব্যবসায়ীরা আসতো। লকডাউনের কারণে কেউ আসতে পারে নাই। করোনার ভাইরাসের প্রভাবে এবার কাস্টমার না থাকার আনারস,কাঠাঁলের ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা যাচ্ছে না। বর্তমানে এসব ফল সিলেট বিভাগে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে বড় সাইজের আনারস প্রতি পিস ৩৫-৪৫ টাকা’ মিডিল সাইজ ৩০-৩৫টাকা। আর ছোট সাইজ প্রতি পিস৮-১০টাকা বিক্রি হচ্ছে। খুচরা কিনতে গেলে বাজারে বড়সাইজ হালি ২০০টাকা,মিডিল সাইজ হালি ১৫০ টাকা আবার ছোট সাইজ হালি ৬০ টাকা থেকে ৭০টাকায় বিক্রি করছে। আরেকজন আনারস আড়তদার বলেন, একদিকে পাইকার নাই আবার অন্যদিকে আনারস বাগানে দ্রুত পেঁকে যাওয়ার কারণে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আনারস পচশীল থাকায় বেশি দিন রাখা যায় না। শ্রীমঙ্গল যদি কোল্ডস্টোরেজ থাকতো তাহলে বছরে কোটি টাকা আয় হতো।’ ’
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মর্কতা আশরাফুল আলম বলেন, কমলগঞ্জে ৪৫০ হেক্টর ভুমিতে আনারস বাগান করা হয়েছে। আনারসের মানও ভাল।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, জেলায় ১২০১ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আনারসের বাাগান শ্রীমঙ্গলে সেখানে ৬২৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য উপজেলাও আনারস ফলন ভালো হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে চাষীরা সমস্যায় রয়েছে। কোল্ডস্টোরেজ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে তাহলে আনারস,লিচু,কাঠাঁল ও লেবু চাহিদা বেশি থাকতো। বিষয়টি আমরা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাবো দ্রুত যেন শ্রীমঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন হয়।

Developed by :