Friday, 14 August, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে বিদ্যুতায়নে বন বিভাগের বাঁধা ?

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে শত ভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষনা করার পর বনবিভাগের বাঁধার কারনে এক বছর ধরে সাড়ে ৩ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন টানতে পাচ্ছে না পল্লী বিদ্যুত সমিতি। এতে আদমপুরের কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি ও পুঞ্জির বাহিরের কালেঞ্জী গ্রাম বিদ্যুতায়ন থেকে বঞ্চিত । শনিবার পল্লী বিদ্যুত সমিতির ঠিকাদার খুটিতে লাইন টানতে গেলে বন বিভাগ বাঁধা দেয়। বাঁধা দেয়ার প্রতিবাদে খাসিয়া ও বস্তিতে বসবাসরত গ্রামের দুই শতাধিক নারী পুরুষ পুঞ্জির সামনে মানববন্ধন করেছেন। শনিবার ৪ জুলাই দুুপুর সাড়ে ১২টায় ঘন্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে দ্রুত ঘরে ঘরে মিটার ও বিদ্যুত সংযোগ প্রদানের দাবী জানান এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, আদমপুর ইউনিয়নের আদমপুর বিটের খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারে প্রায় ৬শ’ লোকসংখ্যা। পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জী গ্রামেরও ৫০টি পরিবারে প্রায় অর্ধ সহ¯্রাধিক লোকের বসবাস। দীর্ঘ দিনে দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে শেষে দিকে ওই দুইটি এলাকায় বিদ্যুতায়নের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ কিলো মিটার এলাকায় বিদ্যুতের খাম্বা বা খুটি স্থাপন করে পল্লী বিদ্যুত সমিতি। প্রথম দিকে কোন বাঁধা না দিলে পরবর্তীতে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা বনবিভাগের জায়গার উপর দিয়ে বিদ্যুত লাইন ঠানতে আপত্তি দেন। সেই থেকে একাধিকবার বিদ্যুতের লাইন টানতে গেলে বনবিভাগ বাঁধা দেয়্। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক, স্থানীয় চেযারম্যান, পল্লী বিদ্যুত সমিতির লোকজন ও বনবিবাগের একাধিক বৈঠক হলেও রশি টানাটানিতে প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যুত বঞ্চিত দুইটি গ্রাম। বিদ্যুত না থাকায় এলাকার ছাত্রছ্ত্রাীদের লেখাপড়াসহ দৈনন্দিন জীবপ যাপনে কষ্ট করছেন গ্রামবাসী। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে আবারও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কালেঞ্জ পুঞ্জিতে নতুন করে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করেন। আর তখনও বন বিভাগের লোকজন এ কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে। বাঁধার প্রতিবাদে দুপুরে কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫ পরিবারের সদস্য ও সাথের গ্রামের ৫০ পরিবারের সদস্য মিলে দুই শতাধিক নারী পুরুষের অংশ গ্রহনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুয়ায়িত ঘোষনা করা হলে ও আমরা কমলগঞ্জের বাসিন্দার বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। তাই অতিশ্রীঘই আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার দাবী জানাচ্ছি। অন্যতায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো।
পুঞ্জির হেডম্যান রিটেঙেন খেরিয়াম-এর সভাপত্বিতে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,পুঞ্জির সহকারী হেডম্যান উয়াংবর সুটিং ,সাবেক হেডম্যান নাইট খেরিয়েম,সামায়েরখেরিয়াম প্রমুখ। আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা শ্যামল রায় বলেন, বিদ্যুতায়নের জন্য ইতিপূর্বে বন বিভাগ একটি জরিপ সম্পন্ন করলে বিদ্যুতায়ন কাজ শুরুর করার সম্পর্কে তার কাছে বন বিভাগের কোন নির্দেশনা আসেনি। তাই তিনি আপাতত কাজটি বন্ধ রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছেন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম প্রকৌশলী গণেশ চন্দ্র দাশ বলেন, কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজনও খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটিও এনে রাখে। শুধুমাত্র বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামকে এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি। এ নিয়ে মাস ৩ আগে বন বিভাগ জরুরীভাবে জরিপও করেছে। তা হলে কেন তারা এখনও বাঁধা প্রত্যাহার করছে না তা বোঝা যাচ্ছে না। শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চত করতেই শনিবার থেকে আবারও ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যুতায়নের কাজে বাঁধা দেয়।

Developed by :