Thursday, 13 August, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে চুরির অপরাধে দুই শিশুকে বেঁধে নির্যাতন

বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জের কুরমা চা বাগানে চুরির অপরাধে মুন্না পাশি (১২) ও জগৎ নুনিয়াকে (১৩) নামে দুই শিশুকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে বাগানের কিছুু লোক। এ সময় কেউ ছেলেদেরকে রক্ষা করতে আসেনি। তবে ৪ ঘন্টা পর বাগান ম্যানেজারের নিদের্শে দুই শিশুকে ছেড়ে দেয়া হয়। ১০ জুলাই শুক্রবার ইসলামপুরের কুরমা চা বাগানের অফিসের সামনে ঘটনাটি ঘটে।


এলাকাবাসী ও নির্যাতিতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুরমা বাগানের শ্রমিক সন্তান মুন্না পাশি (১২) ও জগৎ নুনিয়াকে (১৩) কে শুক্রবার সকালে চুরির অপবাদ দিয়ে বাগানের কর্মচারী মামুন, পঞ্চায়েত সদস্য নারদ পাশিসহ অন্যরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বাগানের নাচ ঘরে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে। সেখানে পঞ্চায়েত সহসভাপতি শাহাদত লাঠি দিয়ে বেধড়ক প্রহার করেন। পরে তাদের দুইজনকে ফ্যাক্টরির সামনে পিছনে হাত নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। শিশুরা চুরি করার কথা স্বীকার না বাগানের ইউপি সদস্য দীপেন সাহা উপস্খিতিতে নির্যাতনে ঘটনা ঘটেছে বলে নিযার্তন শিকার মুন্না পাশির মা অভিযোগ করেন। ভয়ে কেউ তাদেরকে রক্ষা করতে আসেনি। প্রায় ৪ ঘন্টা তাদেরকে বেঁধে রাখা হয়। পরে বাগানের ম্যানেজার খবর শুনে লোক পাঠিয়ে বেঁধে রাখা দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।
নির্যাতিত মুন্না ও জগতের মা লছমিয়া পাশি ও সাবিত্রী নুনিয়া বলেন, বিনা অপরাধে তাদের ছেলেদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বাজার ঘরে রশি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়েছে, পরে ফ্যাক্টরীর পাশে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। এসময় ইউপি সদস্য সামনে থাকলেও তিনি দাঁড়িয়ে থেকে অন্যদেরকে দিয়ে ছেলেদের পিটিয়েছেন। সাথে ছিল পঞ্চায়েতের নারদ পাশি, সাদেকসহ অনেকে। তারা নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেছেন। এ ব্যাপারে কুরমা চা বাাগনের ইউপি সদস্য দীপেন সাহা বলেন, ছেলেদের বেঁধে রাখা হয়েছিল, তবে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মোবাইল চুরির জন্য তাদের আটকানো হয়েছিল, কোন নির্যাতন করা হয়নি। ম্যানেজার খবর পেয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

Developed by :