Saturday, 26 September, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে ভাইয়ের দরজার সামনে ছোট বোনের আত্মহত্যা


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের প্রথম স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর কাছে একমাত্র ছেলেকে রেখে স্বামী সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য গিয়েছিলেন বাদে সোনাপুর গ্রামের মৃত বশির মিয়ার মেয়ে পারুল বেগম (৩৫)। মায়ের অসুস্থ্যতার কথা শুনে পারুল বেগম করোনা দুর্যোগ শুরুর আগেই দেশে ফিরেন। দেশে ফিরে ভাই বাছিত মিয়ার কাছে তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে শুরু হয় বিরোধ। এ নিয়ে নিকট আতœীয়দের কাছে বিচার চেয়ে কোন বিচার না পেয়ে রোববার (২ আগষ্ট) রাত ১২টায় বড় ভাই বাছিত মিয়ার বসত ঘরের দরজার সামনে বিষপানে আতœাহত্যা করেন বিদেশ ফেরৎ ১ সন্তানের জননী পারুল বেগম।
বাদে সোনাপুর গ্রাম ও তার আতœীয় স্বজন সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে থাকাকালীন পারুল বেগম অর্জিত টাকা তার ভাই বাছিত মিয়ার কাছে পাঠাতেন। দেশে ফেরার পর ভাই বাছিত মিয়া বোনের টাকা ফেরৎ না দিয়ে উল্টো তার ওপর নানাভাবে অত্যাচার করতেন। ফলে পারুল বেগম নিকট আতœীয়দের কাছে এসব ঘটনার বিচার প্রার্থনা করে তাদের বাড়িতে থাকতেন। ঈদের সময় কেনা কাটার জন্য ভাইয়ের কাছে টাকা চাইলে ভাই টাকা দেননি। এর অভিমানে ঈদের পরদিন রবিবার দিবাগত রাত ১২টায় ভাইয়ের বসত ঘরের দরজার সামনে বিষ পান করে বিদেশ ফেরৎ পারুল বেগম। বিষ পানের পর তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে পারুলের লাশ উদ্ধার করে। সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
নিহত পারুলের বড় ভাই বাছিত মিয়া বলেন, সে বিষপানে আতœ্যহত্যা করেছে ঠিক তবে সে এমনিতেই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তার কোন টাকা পয়সা কেউ আতœ্যসাৎ করেনি।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে আমরা শুনেছি টাকা নিয়ে ঝামেলা ছিল। পুলিশি তদন্তকালে এসব গুঞ্জন গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

Developed by :