Saturday, 31 October, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে আগুনে পুড়ল ১৬ দোকান, কোটি টাকার ক্ষতি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ১টি বসতঘর ও ১৬টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাম্প নষ্ট হওয়ায় ক্ষুদ্ধ জনতা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে রাখেন। তাদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে আগুনে পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরির্দশন করেছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ঠাকুর বাজারের এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৫টার দিকে ঠাকুরবাজারে একটি মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দেখে বাজার প্রহরী বাসুদেবপুর মসজিদের মোয়াজ্জিন আরজু মিয়া মসজিদের মাইকে এলাউন্স করে বিষয়টি এলাকাবাসীকে অভিহিত করেন। এলাকাবাসী কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অফিসে মোবাইলে যোগাযোগে চেষ্টা করলে ফোন না ধরায় স্থানীয় শুকুর মোল্লা নামে একব্যক্তি বাই সাইকেলে এসে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের নিয়ে যান ঘটনাস্থলে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় আধাঘণ্টা অতিবাহিত করেও পানির পাম্প চালু করতে না পারায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। পরে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে নান্নু স্টোর, দেওয়ান চালের দোকান, সাহবাগ ধানের দোকান, মামনি কনফেকশনারি, শাহজালাল ভেরাটিজ স্টোর, কে এম মেডিক্যাল হল, জননী মেডিক্যাল সেন্টার, মহিউদ্দিন কম্পিউটার, হাসিম টি স্টল, নকুল সেলুন, মকসন স্টোর, বাছির ফার্নিচার, মহসিন ভেরাইটিজ স্টোর, জুয়েল মিয়ার বসতঘর, চন্দন সেলুন, হাফিজ ভেরাইটিজ স্টোর ও নজরুল মিয়ার নামে ব্যবসায়ীদের দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অগ্নিকাণ্ডে দ্রুত নিভানো সম্ভব না হওয়ায় কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হন। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর দীর্ঘসময় কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে রাখে বিক্ষুদ্ধ জনতা। পরে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের আশ্বাসে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটিকে ছেড়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা।খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সমাজ সেবক ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থল পরির্দশন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগীতার আাশ্বাস দেন।   ঠাকুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জইনউদ্দিন, ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন, রফিক মিয়াসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তখন তিনটি দোকানে আগুন ছিল। তাদের পানির পাম্প নষ্ট বলে দীর্ঘ আধাঘণ্টা অতিবাহিত করে। পরে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার আব্দুল কাদির জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের পানি পাম্পটি নষ্ট হওয়ায় কাজ করতে পারিনি। ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সাকিট হতে আগুন লাগতে পারে। তবে তদন্ত করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশেকুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এটি তদন্তক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :