Saturday, 31 October, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

১৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে উপজেলা পরিষদে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করলো চা শ্রমিকরা

কাগজ রিপোর্ট:
২৭ দিন ধরে বন্ধ থাকা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দলই চা বাগান খোলার দাবীতে ফুঁসে উঠেছে বাগানের চা শ্রমিকরা। বন্ধ বাগান খোলার ও চেয়ারম্যানসহ চা শ্রমিকদের ওপর করা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুর থেকে ৪ ঘন্টা ধরে পায়ে হেটে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক দেড় ঘন্টা অবরোধ করে রাখে দুই শতাধিক চা শ্রমিকরা। অবরোধের কারনে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। পরে সেখান থেকে চা শ্রমিকরা উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন। চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল আসার খবরে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের সদস্যরা থানার সামনেসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয়। রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান গ্রহন করে। পরে ইউএনও আশ্বাসে চা শ্রমিকরা বাগানে ফিরে যেতে রাজি হন। সোমবার ২৪ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে দলই চা বাগান থেকে।


জানা যায়, ২৩ আগস্ট স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ ১৩ চা শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন দলই চা বাগানেরকোম্পানীর সহকারি মহা-ব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খান। এ ঘটনায় প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১টায় দলই চা বাগান থেকে দুই শতাধিক চা নারীপুরুষরা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা সদরে আসে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুর থেকে প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে উপজেলা সদরের ভানুগাছ বাজারের ১০ নং রোডে আসলে পুলিশ থানা মুখী রাস্তায় না যেতে বা।ধা দেয়। পরে অন্য সড়ক দিয়ে উপজেলা চৌমুহনীর চারমুখী প্রধান কমলগঞ্জ টু শমসেরনগর সড়কে বেলা ৩টায় অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। এ সময় নানা শ্লোগানে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। অবস্থান কর্মসূচী চলাকারী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন নারী চা নেত্রী গীতা রানী কানু. ছঅত্র নেতা সজল কৈরী, রাম সিং, সুমন রাজভর ও প্রদীপ পাল।দেড় ঘন্টা প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়ায় চার দিকে শত শত গাড়ি আটকে পড়ে। চা শ্রমিকদের শান্ত করেত পুলিশ প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কোন লোকজন ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। দেড় ঘন্টা অবরোধ শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অভিমুখে মিছিল করে প্রধান ফটেকর সামনে অবস্থান নিয়েছে চা শ্রমিকরা। রাত ১০টা পর্যন্ত চা শ্রমিকরা অবস্থান করে। পরে ইউএনও আশ্বাসে বাগানে ফিরে যেতে রাজি হন শ্রমিকরা।

চা শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা কানু বলেন, প্রয়োজনে সারারাত কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এলাকায় সারা রাত অবস্থান নিব। তিনি আরো জানান ২৭ জুলাই থেকে চা বাগান মালিক পক্ষ বে-আইনী ভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই স্থানীয় সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে ধলই চা বাগানে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রথমে ১৯ জুলাই বুধবার ধলই চা বাগান খুলে দেওয়া হবে। পরবর্তী বৈঠকে চা বাগানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম ও বন্ধ থাকালীন চা শ্রমিকদের মজুরি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু রাতের আধারে ম্যানেজার বাংলোয় অবস্থান করা ১৯ আগস্ট সকালে চা শ্রমিকদের সাথে কিছুটা বাকবিকন্ডা হয়।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ধলই চা বাগানের শ্রমিকদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল এসে উপজেলা প্রশাসন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। উপজেলা সদরে যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সে জন্য পুলিশ সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :