Saturday, 31 October, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

কমলগঞ্জে গৃহবধু ধর্ষণ মামলা : পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার চান গৃহবধু ইমা আক্তার

বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সমসেরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের গৃহবধু ইমাআক্তার(২১) ধর্ষনের শিকার হয়েও বিবাদী প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্তে ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন র্নিযাতিতা। আদালতের নির্দেশে প্রথম দফায় মামলাটি তদন্ত করেছিল পিবিআই। পিবিআই তদন্তের ন্যায় বিচার না পাওয়ায় নারাজি দেন বাদী। বর্তমানে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে তদন্ত আসলেও সেখানেও তদন্ত কর্মকর্তাকে নানা ভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন  গৃহবধুর স্বামী ওয়াহিদ আলী। নির্যাতিত গৃহবধু ইমা আক্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আসামীর বিচার দাবী করেছেন।


গৃহ বধুর স্বামী ওয়াহিদ আলী জানান, গোবিন্দপুর গ্রামের কবিরাজ আব্দুল হক দীর্ঘ দিন ধরে আমার স্ত্রী ইমা আক্তার (২১)কে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় একই গ্রামের আব্দুল হক(৪২) আমার স্ত্রী ইমা আক্তার(২১) কে একা পেয়ে অস্ত্র দেখিয়ে জোরপুর্বক র্ধষণ করে। স্ত্রীর আতৎচিৎকারে পার্শ্ববর্তী ঘরের মানুষজন আসলে আব্দুল হক পালিয়ে যায়। ব্যবসায়ীক কারনে শ্রীমঙ্গল থাকায় এলাকাবাসীর টেলিফোন পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে এলাকাবাাসীকে জানিয়ে দ্রুত কমলগঞ্জ হাসপাতালে নেবার পর কতর্ব্যরত ডাক্তাররা মৌলভীবাজার ২৫০ শষ্যা হাসপাতালে নেয়ার পর্রামশ দিলে সেখানে ভর্তি করাই। ঘটনার বিচার চেয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা গ্রহন না করায় বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে বিচার চেয়ে একটি মামলা করেন। মামলা নং-২৬৭/২০১৯। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই ৮ অক্টোবর ২০১৯ মামলাটি তদন্ত করে। আসামী আব্দুল হক প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কিছু যুবকদের নিয়ে শেখ স্মৃতি নিয়াজি পরিষদ নামে একটি সংগঠন করে এদের দিয়ে মিথ্যা স্বাক্ষী প্রদান করেছে বলে গৃহবধুর স্বামী ওয়াহিদ মিয়া দাবী করেন।
নির্যাতিত ইমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত আব্দুল হক প্রভাব খাটিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছেন। আমার স্বাক্ষীদের হুমকি থামকি দিচ্ছে এবং এলাকাবাসীকে টাকা দিয়ে মিথ্যা স্বাক্ষী সাজিয়ে প্রকৃত ঘটনাটি আড়ালে করছে। পিবিআই তদন্তে প্রকৃত বিচার না পাওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে নারাজি দিয়েছি। বর্তমানে কমলগঞ্জ থানায় মামলাটি পুর্ন: তদন্ত করছে। তিনি বলেন, আসামীপক্ষ থানা পুলিশকে মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই কমলগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবী জানান।
মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল হক বলেন, বিষয়টি সর্ম্পন্ন মিথ্যা। এ ধরনের ঘটনার সাথে আমি কখন জড়িত নয়। এটা ওয়াহিদ আলীর সাজানো। মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের প্রশ্নই উঠে না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এস আই অনিক বড়ুয়া বলেন, মামলাটি ২০১৯ সালের। সরেজমিনে তদন্ত করেছি। এর আগে পিবিআই যে লম্বা তদন্ত করেছে তাতে সব কিছু উঠে এসেছে। বিবাদী পক্ষ ম্যানেজ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আমাকে কেউ ম্যানেজ করতে পারবে না।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :